Summary
‘মন’ শব্দটি থেকে মানসিক শব্দটির উৎপত্তি। শিশুরা বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক এবং মানসিকভাবে উন্নতি করে। তারা নতুন ভাষা শেখে, পরিবেশ বুঝতে পারে, এবং চিন্তা করার ক্ষমতা অর্জন করে। কৈশোরে, ছেলেমেয়েরা যুক্তি সঙ্গত চিন্তা করে সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয় এবং বিমূর্ত ধারণা যেমন সততা এবং সাহসিকতা উপলব্ধি করে।
মানসিক বিকাশের জন্য কিছু উপায়:
- পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ভালো বই পড়া।
- প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।
- কৌতূহলী হয়ে শোনা ও বোঝা।
- অন্যদের সাথে মেলামেশা এবং ধারণার বিনিময় করা।
- দলীয় আলোচনার মাধ্যমে শেখা।
শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ছাড়া মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।
কাজ-১: আপনার মানসিক বিকাশকে নির্দেশ করে এমন কয়েকটি দক্ষতার তালিকা তৈরি করুন।
'মন' শব্দটি থেকে মানসিক শব্দটি এসেছে। শিশুরা উচ্চতায় বাড়ে, ওজনে বাড়ে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা কথা বলতে শেখে, মনে রাখতে পারে। আস্তে আস্তে দিন-রাত্রির পার্থক্য বোঝে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানের দূরত্ব কত তা বুঝতে পারে। আমাদের বুদ্ধি আছে বলেই আমরা কাজ করতে পারি। পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারি। এগুলো সবই মানসিক ক্ষমতা বা মানসিক বিকাশ। মানসিক বিকাশ বলতে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার, ভাষার প্রকাশ, চিন্তাশক্তি, বোঝার ক্ষমতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অধিক ক্ষমতা অর্জন বোঝায়।
কৈশোরে ছেলেমেয়েরা চিন্তা ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারে। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে পারে। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করাই মানসিক বিকাশের পরিণত ধাপ, যা কৈশোর কালের ছেলেমেয়েরা অর্জন করে। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা বিমূর্ত ধারণা অর্থাৎ যেগুলো দেখা যায় না, সেগুলো বুঝতে পারে। যেমন- সততা, সাহসিকতা, মায়া-মমতা ইত্যাদি। যে ঘটনা বা বিষয়টি সামনে উপস্থিত নেই, কাগজে কলমে সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে। যেমন- জ্যামিতির সমস্যা (সম্পাদ্য বা উপপাদ্য ইত্যাদি)। যুক্তি দিয়ে মতামত দিতে পারে। তাদের চিন্তা ও মনোযোগ বাড়ে। মনে রাখার ক্ষমতা, চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তি দিয়ে বোঝার ক্ষমতা ইত্যাদি মানসিক ক্ষমতা যার যত বেশি সে জীবনে তত বেশি এগিয়ে যেতে পারে। পরিবেশের সাথে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে।
কৈশোরে মানসিক ক্ষমতা বাড়ানোর কিছু উপায়-
- পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বেশি বেশি বিভিন্ন ধরনের ভালো বই পড়া।
- কৌতূহল মেটানোর জন্য প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।
- আগ্রহ নিয়ে কোনো কিছু শোনা এবং বোঝা।
- মনে রাখার জন্য পরিষ্কারভাবে দেখা এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা।
- মুখস্থ করতে হলে বিষয়বস্তু আগে বুঝে নেওয়া।
- নিজে বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষক বা বয়স্কদের কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে বিষয়বস্তু বুঝে নেওয়া।
- অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে মেলামেশা করা ও ধারণার বিনিময় করা।
- বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা।
- হাতে কলমে পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করা।
- দলীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে নিজের করণীয় বুঝে নেওয়া।
- আমাদের চারপাশের কোথায় কী ঘটছে তা জানার আগ্রহ থাকা ও জানা।
এভাবে চেষ্টা করলে তোমরা তোমাদের মানসিক ক্ষমতার উন্নতি করতে পারবে। তোমাদের সকলের জানা দরকার যে, শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকের বিকাশ ছাড়া শিশু তথা মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

| কাজ-১ তোমার মানসিক বিকাশকে নির্দেশ করে এমন কয়েকটি দক্ষতার তালিকা তৈরি করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
'বীথির মা লক্ষ করলেন বীথির শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা বেড়েছে। মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে সে অনেক কিছু বোঝে।